⏩🌍পৃথিবীর ইতিহাসঃ
পৃথিবীর ইতিহাস বলতে পৃথিবী নামক গ্রহটির উৎপত্তি থেকে আরম্ভ করে বর্তমান সময় পর্যন্ত সমগ্র সময়কালকেই বোঝানো হয়। অতীতের মূল ঘটনাগুলোর সম্পর্কে বুঝতে প্রাকৃতিক বিজ্ঞানের সমস্ত শাখাই মানুষকে সাহায্য করেছে। পৃথিবীর বয়স মহাবিশ্বের বয়সের কমবেশি এক তৃতীয়াংশ । এই বিপুল সময়ের মধ্যে অজস্র ভূতত্ত্বীয় পরিবর্তন পৃৃথিবীতে ঘটে গেছে, জীবনের উদ্ভব হয়েছে এবং সেই জীবনে এসেছে বিবর্তন।
পৃথিবীর সৃষ্টি সম্পর্কে কেউ সুনির্দিষ্ট তথ্য দিতে পারেননি। সম্পাদনা
পৃথিবী সৃষ্টির শুরুর দিকে কোনো পাথর টিকে নেই, তাই সঠিক করে বলা সম্ভভ নয় কখন পৃথিবীর সৃষ্টি হয়েছিল। তবে ধারণা করা হয় সৌরজগৎ সৃষ্টির মোটামুটি ১০০ মিলিয়ন বছর পর একগুচ্ছ সংঘর্ষের ফল হলো পৃথিবী। আজ থেকে ৪.৫৪ বিলিয়ন বছর আগে পৃথিবী নামের গ্রহটি আকৃতি পায়, পায় লৌহের একটি কেন্দ্র এবং একটি বায়ুমণ্ডল।
🌏পৃথিবী সৃষ্টির ইতিহাসঃ
● মহাবিশ্বের সৃষ্টি সংক্রান্ত বিজ্ঞানকে
বলে – Cosmology
● মহাবিশ্ব সৃষ্টি পূর্বমুহূর্তকে বলা হয় – টাইম
জিরো বা জিরো আওয়ার।
● বিগ ব্যাং সৃষ্টির আগের মুহূর্তের সীমকে
বলে – পাঙ্ক ওয়াল।
● বিজ্ঞানের বিষয় হিসেবে বিশ্ব
সৃষ্টিতত্ত্বের জন্ম শুরু হয় – ১৯১৬ সালে আলবার্ট
আইনস্টাইনের সাধারণ আপেক্ষিক তত্ত্ব
প্রণয়নের পর থেকে।
● এডউইন হাবলস মহাবিশ্বের প্রসারণ আবিষ্কার
করেন – ১৯২৯ সালে।
● আজ থেকে ১৫০০-২০০০ কোটি বছর আগে
মহাবিশ্বের আকৃতি ছিল – ডিম্বাকার।
● অভ্যন্তরীণ বিপুল তাপ ও চাপের কারণে পচন্ড
শব্দে ডিম্বাকার বস্তুর মহাবিস্ফোরণ ঘটে, এই
বিষ্ফোরণের ফলেই সৃষ্টি হয়েছিল আমাদের
এই মহাবিশ্ব এটাই – বিগ ব্যাং তত্ত্ব।
● বিগ ব্যাং এর ফলে সৃষ্টি হয় – সময়, স্থান,
শক্তি, পদার্থ।
● বিগ ব্যাং এর কারণে সৃষ্ট খণ্ডগুলো হলো –
গ্রহ, উপগ্রহ, নক্ষত্র, উল্কা, ধুমকেতু ইত্যাদি যা
প্রতিনিয়ত পরস্পর থেকে দুরে সরে যাচ্ছে।
● বিগ ব্যাং তত্ত্বের প্রবক্তা – জি
ল্যামেটার (১৯২৭ সাল)
● জি ল্যামেটার যে দেশের বিজ্ঞানী –
বেলজিয়াম।
● বিগ ব্যাং তত্ত্বের আধুনিক তত্ত্ব ব্যাখ্যা
উপস্থাপন করেন – স্টিফেন হকিং।
● স্টিফেন হকিং বিশ্বের একজন অতিশয়
বিখ্যাত – পদার্থবিজ্ঞানী।
● বিগ ব্যাং তত্ত্বের ব্যাখ্যা সংম্বলিত
স্টিফেন হকিং এর বিখ্যাত বই – A Brief History of
Time
● জ্যোতির্বিজ্ঞানের জনক হলে –
হিপ্পার্কাস।
● মহাজাগতিক মানচিত্র তৈরি করা হয়েছে –
হিপ্পাকার্স এর নামে।
● হিপ্পাকার্স ম্যাপ হলো – নতুন মহাজাগতিক
মানচিত্র।
● বিজ্ঞানী হাবল মহাবিশ্ব সম্পর্কে বলেন –
‘মহাবিশ্ব প্রতিনিয়তই সম্প্রসারিত হচ্ছে’।
● টলেমি ছিলেন – জ্যোতির্বিদ।
● গ্যালাক্সির কেন্দ্রীভূত অংশের চতুর্দিকে
আবর্তন সম্পূর্ণ করতে সূর্যের সময় লাগে – ২২৫
মিলিয়ন বছর।
● গ্যালাক্সির ক্ষুদ্র অংশ যে নামে পরিচিত
তা হলো – ছায়াপথ।
● মহাবিশ্বের সবচেয়ে বড় নক্ষত্র হলো –
বেটেলগম।
● আকাশের উজ্জ্বলতম নক্ষত্র হলো – লুব্ধক।
● লুব্ধকের ইউরোপীয় নাম হলো – সিরিয়াস।
● পৃথিবীর নিকটতম নক্ষত্র হলো – সূর্য।
● সূর্য হতে পৃথিবীর দুরত্ব প্রায় – ১৫ কোটি
কিলোমিটার।
● সপ্তর্ষিমন্ডল আকাশে – জিজ্ঞাসা
চিহ্নের মতো দেখায়।
● যে নিউট্রন তারকা রেডিও তরঙ্গ বিকিরণ
করে তাকে বলে – পালসার।
● সূর্য তার নিজ ছায়াপথকে কেন্দ্র করে ঘুরে
আসতে যে সময় নেয় তাকে বলে – কসমিক
ইয়ার।
● আমাদের সূর্যের কসমিক ইয়ারে অতিক্রান্ত
দূরত্ব হলো – ২০ কোটি আলোকবর্ষ।
● শীতের সন্ধ্যারাত্রে পূর্ব আকাশে মনুষ্য
আকৃতির একটি নক্ষত্র দেখা যায়, একে বলে –
কালপুরুষ।
পৃথিবী-চাঁদ সংঘর্ষ সম্পাদনা
“থিয়া” নামের মোটামুটি মঙ্গলের আকৃতির একটা গ্রহাণুর সাথে সংঘর্ষ হয় পৃথিবীর। পৃথিবী মোটামুটি আস্তই থাকে কিন্তু বায়ুমণ্ডল উবে যায় আর ধ্বংস হয়ে যায় এই গ্রহাণুটি। এর ধ্বংসাবশেষ থেকে তৈরি হয় চাঁদ।
গলিত লাভার সমুদ্র সম্পাদনা
থিয়ার সাথে সংঘর্ষের ফলে উত্তপ্ত হয়ে ওঠে পৃথিবী। গলিত লাভার টগবগ করতে থাকা সমুদ্র চারিদিকে। শুক্র গ্রহের অবস্থা এখন যেমন, তখন পৃথিবীর অবস্থা ছিলো তেমন। আস্তে আস্তে ঠাণ্ডা হয় পৃথিবী, লাভা জমাট বেঁধে তৈরি করে পাথর আর পানি জমতে শুরু করে পৃথিবীর প্রথম সাগরে। এ সময়ে তৈরি হয় পৃথিবীর প্রাচীনতম খনিজ, জিরকন। এদের বয়স মোটামুটি ৪.৪ বিলিয়ন বছর।
প্রথম মহাদেশ সম্পাদনা
এখন পৃথিবীর বিভিন্ন মহাদেশ বসে আছে অতিকায় সব টেকটোনিক প্লেটের ওপরে। আদিম টেক্টোনিক প্লেট ছিলো অনেক ছোট। এদের মাঝে অনেক সময়ে প্রচুর পরিমাণে স্বর্ণ- রৌপ্যের মতো দামি ধাতু পাওয়া যায়। আজ থেকে প্রায় ৩.৮ বিলিয়ন বছর আগে তৈরি হয়েছিলো প্রথম এসব মহাদেশ।
প্রাণের প্রথম নিঃশ্বাস সম্পাদনা
মোটামুটি ৩.৫ বিলিয়ন বছর আগে সালোকসংশ্লেষণ থেকে আসে প্রথম অক্সিজেন। পাথরের ওপরে জন্মানো সায়ানোব্যাকটেরিয়া বা নীলচে সবুজ শ্যাওলা থেকে প্রথম অক্সিজেন আসে। তবে এটা আসলে ভালো কিছু করেনি। এই অক্সিজেনের উপস্থিতির কারণে এমন কিছু ব্যাকটেরিয়া মরে যায় যারা অক্সিজেন এর উপস্থিতি সহ্য করতে পারে না। আর এভাবে ২.৪ বিলিয়ন বছর আগে পৃথিবীতে অক্সিজেন অনেক বেশি বেড়ে যায় যাকে বলে হয়ে থাকে “Great Oxygenation Crisis”।
নিরুপদ্রব এক বিলিয়ন বছর সম্পাদনা
প্রথম মহাদেশ তৈরি হবার পর এক বিলিয়ন বছর তেমন কিছুই হয়নি পৃথিবীতে। একেবারে একঘেয়ে একটা সময় গেছে। মহাদেশগুলো আটকে ছিলো একটা ট্রাফিক জ্যামে অর্থাৎ তেমন একটা নড়াচড়া করেনি। প্রাণের তেমন কোন উন্নতিও ঘটেনি এ সময়ে।
মহা-মহাদেশ সম্পাদনা
মহা-মহাদেশের মাঝে একটি হলো প্যানগায়া।প্যানগায়ার মাধ্যমে অখণ্ড মহাদেশটি বিভক্ত হয়ে তৈরী করে অনেকগুলো মহাদেশ।এখনো বিভিন্ন পর্বতমালা দেখে গবেষকেরা বের করতে পারেন ঠিক কিভাবে পৃথিবীর বিভিন্ন এলাকা একত্রে যুক্ত থেকে এসব বিশাল মহা-মহাদেশের সৃষ্টি করেছিলো।
ভয়ংকর শীতকাল সম্পাদনা
৭৫০ মিলিয়ন বছর আগে হঠাৎ করেই একটা বড় মহাদেশ অন্যদের থেকে আলাদা হয়ে বের হয়ে যায়। এ সময়ে পৃথিবী একেবারে ঠাণ্ডা হয়ে একটা বিশাল বরফের গোলায় রূপান্তরিত হয়। এ সময়ে হিমবাহ দিয়ে ঢাকা ছিলো ভূপৃষ্ঠ। এমনকি বিষুবীয় অঞ্চলেও ছিলো হিমবাহ।
প্রাণের বিস্ফোরণ সম্পাদনা
৬৫০ মিলিয়ন বছর আগে বায়ুমণ্ডলে আবারো বাড়তে শুরু করে অক্সিজেন এবং এ সময়ে বিভিন্ন প্রাণীর উদ্ভব হতে থাকে। এককোষী প্রাণীর পাশাপাশি এসে পড়ে বহুকোষী প্রাণী। এই সময়সীমার মাঝেই শিকার এবং শিকারির উদ্ভব হয়।
প্রাণীজগতের বিলুপ্তি সম্পাদনা
পৃথিবীর ইতিহাসে সবচাইতে বড় বিলুপ্তির ঘটনা ঘটে আজ থেকে ২৫২ মিলিয়ন বছর আগে পারমিয়ান পিরিয়ডে। মাত্র ৬০ হাজার বছরের মাঝে প্রায় ৯০ শতাংশ জীবের বিলুপ্তি ঘটে। ৬৬ মিলিয়ন বছর আগে ক্রেটেশাস পিরিয়ডে বিলুপ্তি ঘটে ডায়নোসর সহ ৮৫ শতাংশ জীবের। পারমিয়ান পিরিয়ডে এই বিলুপ্তির কারণ ছিলো সাইবেরিয়ায় এক বিশাল অগ্ন্যুৎপাত। পরিবেশ পরিবর্তনের কারণেও বিলুপ্তি ঘটতে দেখা গেছে। ৪৫০ মিলিয়ন বছর আগে বড়সড় একটা তুষার যুগের কারণে বিলুপ্তি ঘটে ৭৫ শতাংশ জীবের।
বরফ যুগ সম্পাদনা
পাঁচটি বড় বরফ যুগ দেখা যায় পৃথিবীর ইতিহাসে। আপনি কি জানেন, এখনও আমরা একটি বরফ যুগের মাঝে বাস করছি? আজ থেকে প্রায় ১১,৫০০ বছর আগে শুরু হয়েছিলো এই বরফ যুগ।
প্লাস্টিক যুগ? সম্পাদনা
বর্তমান সময়ে প্লাস্টিকের এতো বেশি আবর্জনা জমে গেছে যে অনেক বিজ্ঞানী একে প্লাস্টিক যুগ বা প্লাস্টিসিন পিরিয়ড বলে আখ্যা দিচ্ছেন।
📖কোরআনের ভাষায় পৃথিবীঃ
‘বিগ ব্যাং’ অর্থ্যাৎ মহা বিস্ফোরণ। বিজ্ঞানীরা দাবী করে আসছে পৃথিবী একটি মহা বিস্ফোরণের মাধ্যেমে সৃষ্টি হয়েছে। কিন্তু একজন মুসলমান হিসেবে কি বিজ্ঞানীদের এই দাবি বিশ্বাস করা যায়? পৃথিবী সৃষ্টির সঠিক তথ্য আছে পবিত্র কোরআনে।
পৃথিবী সৃষ্টি প্রসঙ্গে মহান আল্লাহ পাক আল কোরআনে সূরা আম্বিয়ায় বলেছেন, ‘সত্য প্রত্যাখানকারীরা কি ভেবে দেখে না যে, আকাশমন্ডলি ও পৃথিবী মিশে ছিল ওতপ্রোতভাবে; অত:পর আমি উভয়কে পৃথক করে দিলাম’ (আম্বিয়া:৩০)।
আয়াতটি আমাদেরকে একেবারে পরিস্কারভাবে বলছে পৃথিবী ও অন্যান্য গ্রহ-নক্ষত্রেরা একসময় একজায়গায় পুঞ্জিভুত ছিল। এবং একটা নির্দিষ্ট সময়ে এদের জন্ম হয়।
আজকের বিজ্ঞান কি বলে এ সম্বন্ধে ? ষ্টিফেন হকিং এর বিগ ব্যাং থিওরী আজ সর্বময় স্বীকৃত। এ থিওরী অনুযায়ী মহাবিশ্বের সকল দৃশ্য অদৃশ্য গ্রহ নক্ষত্র সৃষ্টির শুরুতে একটি বিন্দুতে পুঞ্জিভুত ছিল। এবং একটা বিশাল বিষ্ফোরণের মাধ্যমে এরা চারিদেকে ছড়িয়ে যেতে থাকে। কিভাবে মরুভুমির বুকে সংকলিত দেড় হাজার বছর আগের একটি বই এই বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যাটা ধারণ করতে পারল ?
ড:মিলার বলেছেন, এই আয়াতটি নিয়ে চিন্তা-গবেষণার পর কোরআন যে ঐশী গ্রন্থ তা মেনে নিতে বাধ্য হই। যারা প্রচার চালাচ্ছে কোরআন হযরত মুহাম্মদ (সা) এর নিজস্ব বক্তব্য তাদের দাবি নাকচ করার জন্য এই একটি আয়াতই যথেষ্ট।
ড:মিলার বলেছেন, দেড় হাজার বছর আগে ইসলামের নবীর পক্ষে কিভাবে মহাবিশ্ব সৃষ্টির রহস্য নিয়ে কথা বলা সম্ভব, যিনি কোন দিন কোন স্কুলে পড়ালেখা করেন নি। কারণ এটি এমন এক বৈজ্ঞানিক বিষয়, যা সম্পর্কে তত্ত্ব আবিষ্কার করে মাত্র কয়েক বছর আগে ১৯৭৩ সালে নোবেল পুরুস্কার পেয়েছেন এক বিজ্ঞানী। মিলারের মতে এই আয়াতে সেই বিগ ব্যাং এর কথাই বলা হয়েছে যার মাধ্যমে পৃথিবী, আকাশমন্ডলী ও তারকারাজি সৃষ্টি হয়েছে।54 إِنَّ رَبَّكُمُ اللَّهُ الَّذِي خَلَقَ السَّمَاوَاتِ وَالْأَرْضَ فِي سِتَّةِ أَيَّامٍ ثُمَّ اسْتَوَىٰ عَلَى الْعَرْشِ يُغْشِي اللَّيْلَ النَّهَارَ يَطْلُبُهُ حَثِيثًا وَالشَّمْسَ وَالْقَمَرَ وَالنُّجُومَ مُسَخَّرَاتٍ بِأَمْرِهِ ۗ أَلَا لَهُ الْخَلْقُ وَالْأَمْرُ ۗ تَبَارَكَ اللَّهُ رَبُّ الْعَالَمِينَ
নিশ্চয় তোমাদের প্রতিপালক আল্লাহ। তিনি নভোমন্ডল ও ভূমন্ডলকে ছয় দিনে সৃষ্টি করেছেন। অতঃপর আরশের উপর অধিষ্টিত হয়েছেন। তিনি পরিয়ে দেন রাতের উপর দিনকে এমতাবস্থায় যে, দিন দৌড়ে রাতের পিছনে আসে। তিনি সৃষ্টি করেছেন সূর্য, চন্দ্র ও নক্ষত্র দৌড় স্বীয় আদেশের অনুগামী। শুনে রেখ, তাঁরই কাজ সৃষ্টি করা এবং আদেশ দান করা। আল্লাহ, বরকতময় যিনি বিশ্বজগতের প্রতিপালক।আল্লাহ تعالى পৃথিবীর সবকিছু মানুষের জন্য যে তৈরি করেছেন শুধু তাই নয়, তিনি পৃথিবীকে একদম শুরু থেকে ধাপে ধাপে গঠন করেছেন যেন একদিন পৃথিবীতে মানুষ থাকতে পারে। পৃথিবীর বিলিয়ন বছরের ইতিহাস দেখলে পরিষ্কার প্রমাণ পাওয়া যায় যে, একদম শুরু থেকেই এই গ্রহটি প্রস্তুতি নিচ্ছিল যে এখানে একদিন মানুষ থাকবে।
সাতটি আকাশ
আয়াতটির পরের অংশে আল্লাহ تعالى বলছেন—
তারপর তিনি নির্দেশ করেছিলেন আকাশের প্রতি এবং তাদেরকে সাতটি/অনেক আকাশে গঠন করেছেন।
নাস্তিকরা এই আয়াতটি দেখিয়ে বলে, “দেখ! তোমাদের কু’রআনে ভুল আছে? কু’রআন বলে আকাশ সৃষ্টি হয়েছে পৃথিবী সৃষ্টির পরে!”
এই আয়াতটি বলে না যে, আকাশ সৃষ্টি হয়েছে পৃথিবী সৃষ্টির পরে, এটি বলে যে, আগে যে আকাশ ছিল তাকে সাতটি আকাশে গঠন করা হয়েছে।[৪] পৃথিবীর ইতিহাস দেখলে দেখা যায়, প্রথমে পৃথিবীর বায়ুমণ্ডল পুরোটা জুড়ে ছিল শুধুই হাইড্রোজেন এবং হিলিয়াম, কোনো স্তর ছিল না। তারপর কয়েক বিলিয়ন বছরের প্রক্রিয়ায় বায়ুমণ্ডলের স্তরগুলো তৈরি হয়েছে, বিশেষ করে অক্সিজেন এসেছে ব্যাকটেরিয়া আসার পরে, অনেক উঁচু পর্বত তৈরি হবার পর।[22]
আরবি নিয়ে আগ্রহীদের জন্য একটি উল্লেখযোগ্য ব্যাপার। اِسْتَوَىٰ অর্থ হয় সোজা, সমান, নিয়মিত করা। কিন্তু اِسْتَوَىٰ এর পরে যখন إلى আসে, তখন তার অর্থ হয় ‘মনোনিবেশ করা’, যা আল্লাহর تعالى ক্ষেত্রে ব্যবহার করাটা উচিত হবে না। তাই অনুবাদে ‘নির্দেশ করা’ বলা হয়েছে।[৫] আর আরবিতে سبع ব্যবহার করা হয় সাত বা অনেক—দুই ক্ষেত্রেই।[২]
এখন এই সাতটি আকাশ নিয়ে দুটি প্রতিষ্ঠিত মত রয়েছে। একটি হলো—এখানে আল্লাহ বায়ুমণ্ডলের ৭টি স্তরের কথা বলেছেন বা পৃথিবীর কাছাকাছি যে আকাশ রয়েছে, তাকে সাতটি স্তরে ভাগ করাকে বুঝিয়েছেন।[৪] বায়ুমণ্ডলে কয়টি স্তর রয়েছে, তা নিয়ে মতবিরোধ রয়েছে। অনেকে ‘ওজন স্তর’-কে একটি আলাদা স্তর দাবি করেন, অনেকে করেন না। অনেকে এক্সস্ফিয়ারকে একটি স্তর গোনেন, অনেকে বলেন এটা কোনো স্তর হতে পারে না। তাই এই ধারণা নিয়ে মতবিরোধ রয়েছে। কিন্তু উল্লেখযোগ্য ব্যাপার হলো, আমরা যদি উপরের দিকে যেতে থাকি, তাহলে দেখা যায় বায়ুমণ্ডলের তাপমাত্রা ঠিক সাত বার পরিবর্তন হয়। প্রথমে তাপমাত্রা কমতে থাকে, তারপর প্রায় ৬ মাইল উচ্চতা পর্যন্ত তা মোটামুটি একই থাকে, তারপর তা বাড়তে থাকে, আবার অনেক উচ্চতা পর্যন্ত একই থাকে, আবার কমে। নীচে লাল দাগটি দেখুন, তা ঠিক সাত বার পরিবর্তন হয়—
হয়তো আল্লাহ تعالى বায়ুমণ্ডলের তাপমাত্রার এই সাত বার পরিবর্তনের ফলে সৃষ্ট সাতটি স্তরের কথাই বলেছেন।[21]
আরেকটি মত হলো, প্রথম আকাশটি হচ্ছে আসলে আমাদের দৃশ্যমান মহাবিশ্ব। এরকম আরও ছয়টি মহাবিশ্ব রয়েছে। এর স্বপক্ষে প্রমাণ দেখাতে গিয়ে সূরা ফুসসিলাত-এর ১২ নম্বর আয়াত দেখানো হয়, যেখানে আল্লাহ تعالى বলেছেন:
وَزَيَّنَّا ٱلسَّمَآءَ ٱلدُّنْيَا بِمَصَٰبِيحَ
আমি প্রথম আকাশকে সাজিয়েছি বহু প্রদীপ দিয়ে।
অনেকে বলেন এই প্রদীপ বলতে সূর্য, নক্ষত্র, গ্যালাক্সি—এগুলো বোঝানো হয়েছে। কিন্তু এই মতের বিপক্ষে প্রমাণ দেখাতে গিয়ে অনেকে বলেন, বাকারার আয়াতে ثُمَّ (তারপর) ব্যবহার করা হয়েছে, যার অর্থ পৃথিবী আগে ছিল, ‘তারপর’ বায়ুমণ্ডলকে (আকাশকে) সাতটি স্তরে ভাগ করা হয়েছে। এছাড়াও আব্দেল হালিমের কু’রআনের অনুবাদ অনুসারে ফুসসিলাতের আয়াতটির অর্থ আসলে হবে, “আমি কাছের আকাশটিকে সুন্দরভাবে উজ্জ্বল করেছি”—এখানে প্রদীপের কোনো উল্লেখ নেই। আরেকটি প্রমাণ হলো, সূরা নুহ ১৫-১৬ আয়াতে বলা হয়েছে —
কখনও চিন্তা করে দেখেছো: কীভাবে আল্লাহ সাতটি আকাশ সৃষ্টি করেছেন—একটির উপর আরেকটি ? তিনি চাঁদকে তাদের (আকাশদের) মধ্যে একটি আলো হিসেবে দিয়েছেন এবং সূর্যকে একটি প্রদীপ হিসেবে? [নুহ ১৫-১৬]
এখানে ১৬ নম্বর আয়াতে فِيهِنَّ অর্থ “তিন বা তার অধিক আকাশের মধ্যে।” যার মানে দাঁড়ায়, প্রথম আকাশ পুরো মহাবিশ্ব হতে পারে না, কারণ চাদের আলো এই পুরো মহাবিশ্বকে আলোকিত করে না, করবেও না—আরও দুটি মহাবিশ্ব তো দূরের কথা। এই আয়াতের ব্যাখ্যা একটাই হতে পারে—চাঁদ বায়ুমণ্ডলের কমপক্ষে তিনটি স্তরে আলো হিসেবে রয়েছে। ১৫ নম্বর আয়াতে আল্লাহ تعالى আকাশকে সাতটি আকাশে তৈরির কথা বলেছেন এবং ১৬ নম্বর আয়াতে তিনি فِيهِنَّ বলতে সম্ভবত সেই সাতটি আকাশকেই বুঝিয়েছেন।
সুতরাং সাত আকাশ বলতে বায়ুমণ্ডলের সাতটি স্তর, যেখানে শেষ স্তরটি হচ্ছে মহাকাশ—এর পক্ষে এখন পর্যন্ত তিনটি যুক্তি রয়েছে।
আরেকটি উল্লেখযোগ্য ব্যাপার হলো, “তারপর” একটি সময়ের ধারণা। আল্লাহর تعالى কাছে সময় এবং আমাদের কাছে সময় ভিন্ন ব্যাপার। তিনি সময়ের উর্ধে। তাই তার কাছে “তারপর” আর আমাদের কাছে “তারপর” এক নয়।[৮] যেমন কু’রআনে বহু জায়গায় আল্লাহ تعالى ভবিষ্যতের ঘটনাগুলো এমনভাবে বলেছেন, যেন তা ইতিপূর্বে ঘটে গেছে।কারণ আমাদের কাছে অতীত, বর্তমান, ভবিষ্যৎ যেরকম, তাঁর কাছে সেরকম নয়। আমাদের ভাষার শব্দভাণ্ডারে অতীত, বর্তমান এবং ভবিষ্যতের বাইরে কোনো শব্দ নেই, কারণ আমরা এর বাইরে কোনো কিছু কল্পনা করতে পারি না। আমাদের সমস্ত চিন্তা, কল্পনা, অভিজ্ঞতা স্থান এবং কালের মধ্যে সীমাবদ্ধ। স্থান এবং কালের বাইরে যা কিছুই আছে, তা আমরা কখনই জানতে পারব না। একারণেই আল্লাহ تعالى বলেছেন—আর একমাত্র তিনিই সবকিছুর ব্যাপারে সব জানেন। [বাকারাহ ২৯]আল্লাহ তায়া’লা বলেনঃ
(আল্লাহ যথার্থরূপে নভোমন্ডল ও ভূমন্ডল সৃষ্টি করেছেন। এতে নিদর্শন রয়েছে ঈমানদার সম্প্রদায়ের জন্যে)। (আনকাবুতঃ ৪৪)
এ ধরায় কত যে বিচিত্র প্রাণী রয়েছে যা গণনা করে শেষ করা যাবেনা। এ সব কিছু সৃষ্টির পিছনে কি হিকমত আছে বলে আপনি কি মনে করেন?! এ মহাবিশ্বে অনেক সুস্পষ্ট নিদর্শন রয়েছে যা আল্লাহর কুদরত ও তাঁর মহিমা প্রমাণ করে। আধুনিক বিজ্ঞান এখনো অনেক নতুন নতুন নিদর্শন আবিষ্কার করছে যা মানুষকে মহান সুনিপুণ প্রজ্ঞাময় স্রষ্টা আল্লাহর মহিমা বুঝিয়ে দেয়।
এডগার মিশেল
চাঁদে ষষ্ঠ বিচরণকারী
ইলাহের একটি দলিল
“আমাদের গ্রহের অবলোকন ছিল ঐশী আভাস।”
মানুষ যদি এ মহাবিশ্ব ও এর ভিতরে যা কিছু আছে তা নিয়ে একটু চিন্তা করে এবং গভীরভাবে গবেষণা করে তবে সে দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করবে যে, এ বিশ্ব অত্যন্ত সুক্ষ্মভাবে সুবিন্যস্ত করে সৃষ্টি করা হয়েছে। একজন প্রজ্ঞাময়, সর্বশক্তিমান ও সর্বজ্ঞানী ইলাহ তা সৃষ্টি করেছেন, তিনি একে উত্তমরূপে সুপরিমিতভাবে বানিয়েছেন।
এ মহাবিশ্বের আকাশ, আকাশের তারকারাজি, গ্রহ নক্ষত্র ও ছায়াপথ আর জমিনে যা কিছু আছে ও যে সব নদ নদী, খাল বিল, পাহাড় পর্বত, পশুপাখি , গাছপালা ইত্যাদিযা কিছু মহান আল্লাহ তায়া’লা অস্তিত্বহীন থেকে সৃষ্টি করেছেন, এসব নিয়ে চিন্তা করলেই আমরা আল্লাহর কুদরত, জ্ঞান, প্রজ্ঞা বুঝতে সক্ষম হই। আল্লাহ তায়া’লা বলেনঃ
(কাফেররা কি ভেবে দেখে না যে, আকাশমন্ডলী ও পৃথিবীর মুখ বন্ধ ছিল, অতঃপর আমি উভয়কে খুলে দিলাম এবং প্রাণবন্ত সবকিছু আমি পানি থেকে সৃষ্টি করলাম। এরপরও কি তারা বিশ্বাস স্থাপন করবে না? আমি পৃথিবীতে ভারী বোঝা রেখে দিয়েছি যাতে তাদেরকে নিয়ে পৃথিবী ঝুঁকে না পড়ে এবং তাতে প্রশস্ত পথ রেখেছি, যাতে তারা পথ প্রাপ্ত হয়। আমি আকাশকে সুরক্ষিত ছাদ করেছি; অথচ তারা আমার আকাশস্থ নিদর্শনাবলী থেকে মুখ ফিরিয়ে রাখে। তিনিই সৃষ্টি করেছেন রাত্রি ও দিন এবং সূর্য ও চন্দ্র। সবাই আপন আপন কক্ষপথে বিচরণ করে)। (আম্বিয়াঃ ৩০-৩৩)
জেমস আরউইন
মহাকাশচারী
এটা আল্লাহর সৃষ্টি!!
“এটা দেখা মাত্র অবশ্যই মানুষের মাঝে পরিবর্তন আসবে সে আল্লাহর সৃষ্টিকে আল্লাহর ভালবাসাকে মূল্যায়ন করবে” তখন তিনি আলোচনা করেছিলেন জগত নিয়ে।
জ্ঞানীলোক যখন আল্লাহর সৃষ্টি নিয়ে চিন্তাভাবনা করে তখন সে নিশ্চিতভাবে জানতে পারে এ বিশ্বে যা কিছু আছে সব কিছুই আল্লাহর ইবাদত করে। সব সৃষ্টজীব আল্লাহর পবিত্রতা বর্ননা করে ও গুনকীর্তন করেন। আল্লাহ তায়া’লা বলেনঃ (রাজ্যাধিপতি, পবিত্র, পরাক্রমশালী ও প্রজ্ঞাময় আল্লাহর পবিত্রতা ঘোষণা করে, যা কিছু আছে নভোমন্ডলে ও যা কিছু আছে ভূমন্ডলে)। (জুম’আঃ ১)
তারা সকলে আল্লাহর মহিমার সামনে সিজদাবনত হয়। আল্লাহ তায়া’লা বলেনঃ
তুমি কি দেখনি যে, আল্লাহকে সেজদা করে যা কিছু আছে নভোমন্ডলে, যা কিছু আছে ভুমন্ডলে, সূর্য, চন্দ্র, তারকারাজি পর্বতরাজি বৃক্ষলতা, জীবজন্তু এবং অনেক মানুষ। আবার অনেকের উপর অবধারিত হয়েছে শাস্তি। আল্লাহ যাকে ইচ্ছা লাঞ্ছিত করেন, তাকে কেউ সম্মান দিতে পারে না। আল্লাহ যা ইচ্ছা তাই করেন। (হাজ্বঃ ১৮)
ডেবোরা পটার
আমেরিকান সাংবাদিক
আল্লাহ কর্তৃক মানুষকে মর্যাদা প্রদান
“ইসলামই হল আল্লাহ তায়ালার বিধান, আমাদের চার পাশে প্রকৃতির মাঝে তা আমরা দেখতে পাই। এক মাত্র আল্লাহর নির্দেশে পাহাড় সমুদ্র গ্রহ নক্ষত্র বিচরণ করে এবং নিজ কক্ষ পথে সঠিক ভাবে পরিচালিত হয়। এ গুলো তাদের সৃষ্টি কর্তা আল্লাহর নির্দেশের অধীন। এমনিভাবে এই জগতের প্রতিটি অনু এমনকি জড় বস্তুও এ নিয়মের অধীন। ব্যতিক্রম শুধু মানুষ। কারণ আল্লাহ তায়ালা তাকে ইচ্ছার স্বাধীনতা দান করেছেন। তাই ইচ্ছা করলে সে আল্লাহর বিধানে চলতে পারে, ইচ্ছা করলে নিজে নিজের বিধান রচনা করবে এবং নিজের পছন্দের দীনের উপর চলতে পারে। দুঃখের বিষয় হল, অধিকাংশ ক্ষেত্রে মানুষ দ্বিতীয় পথটি গ্রহণ করেছে। “
এমনিভাবে সব সৃষ্টজীব মহান আল্লাহ তায়া’লার তাছবিহ পাঠ করে, তাঁর প্রতি বিনীত হয়ে তারই প্রশংসা করে। আল্লাহ তায়া’লা বলেনঃ
তুমি কি দেখ না যে, নভোমন্ডল ও ভূমন্ডলে যারা আছে, তারা এবং উড়ন্ত পক্ষীকুল তাদের পাখা বিস্তার করতঃ আল্লাহর পবিত্রতা ও মহিমা ঘোষণা করে? প্রত্যেকেই তার যোগ্য এবাদত এবং পবিত্রতা ও মহিমা ঘোষণার পদ্ধতি জানে। তারা যা করে, আল্লাহ সে বিষয়ে সম্যক জ্ঞাত। (নুরঃ ৪১)
অন্যদিকে মু’মিন ব্যক্তি দেখতে পায় যে, মহাবিশ্ব একটি কাফেলার মত একই দিকে চলমান, আল্লাহ তায়া’লার দিকে চলছে। ফলে সেও এ চলমান পবিত্র কাফেলার সাথে ঐকতানে চলে। এতে তার জীবন আনন্দময় হয় এবং তার বিবেক ও অনুভূতি স্থীর হয়।
মহাবিশ্ব সৃষ্টি আল্লাহর একত্ববাদের প্রমাণ
এ সুবিশাল মহাবিশ্ব, এর মধ্যকার সকল সৃষ্টি ও বিস্ময়কর বিষয়সমূহ আল্লাহর মহিমা ও কুদরত এবং তাঁর সুনিপুণ সৃষ্টির সবচেয়ে বড় প্রমাণ। এ সব কিছুই আল্লাহর একত্ববাদ প্রমাণ করে এবং প্রমাণ করে যে, তিনি ছাড়া কোন প্রতিপালক নেই, কোন উপাস্যনেই। আল্লাহ তায়া’লা বলেনঃ
তাঁর নিদর্শনাবলীর মধ্যে এক নিদর্শন এই যে,তিনি মৃত্তিকা থেকে তোমাদের সৃষ্টি করেছেন। এখন তোমরা মানুষ, পৃথিবীতে ছড়িয়ে আছ। আর এক নিদর্শন এই যে,তিনি তোমাদের জন্যে তোমাদের মধ্য থেকে তোমাদের সংগিনীদের সৃষ্টি করেছেন, যাতে তোমরা তাদের কাছে শান্তিতে থাক এবং তিনি তোমাদের মধ্যে পারস্পরিক সম্প্রীতি ও দয়া সৃষ্টি করেছেন। নিশ্চয় এতে চিন্তাশীল লোকদের জন্যে নিদর্শনাবলী রয়েছে। তাঁর আর ও এক নিদর্শন হচ্ছে নভোমন্ডল ও ভূমন্ডলের সৃজন এবং তোমাদের ভাষা ও বর্ণের বৈচিত্র। নিশ্চয় এতে জ্ঞানীদের জন্যে নিদর্শনাবলী রয়েছে। তাঁর আরও নিদর্শনঃ রাতে ও দিনে তোমাদের নিদ্রা এবং তাঁর কৃপা অন্বেষণ। নিশ্চয় এতে মনোযোগী সম্প্রদায়ের জন্যে নিদর্শনাবলী রয়েছে। তাঁর আরও নিদর্শনঃ তিনি তোমাদেরকে দেখান বিদ্যুৎ, ভয় ও ভরসার জন্যে এবং আকাশ থেকে পানি বর্ষণ করেন, অতঃপর তদ্দ্বারা ভূমির মৃত্যুর পর তাকে পুনরুজ্জীবিত করেন। নিশ্চয় এতে বুদ্ধিমান লোকদের জন্যে নিদর্শনাবলী রয়েছে। তাঁর অন্যতম নিদর্শন এই যে, তাঁরই আদেশে আকাশ ও পৃথিবী প্রতিষ্ঠিত আছে। অতঃপর যখন তিনি মৃত্তিকা থেকে উঠার জন্যে তোমাদের ডাক দেবেন, তখন তোমরা উঠে আসবে। নভোমন্ডলে ও ভুমন্ডলে যা কিছু আছে, সব তাঁরই। সবাই তাঁর আজ্ঞাবহ। (সূরা রূমঃ২০-২৬)
আল্লাহ তায়া’লা আরো বলেনঃ
বল, সকল প্রশংসাই আল্লাহর এবং শান্তি তাঁর মনোনীত বান্দাগণের প্রতি! শ্রেষ্ঠ কে? আল্লাহ না ওরা-তারা যাদেরকে শরীক সাব্যস্ত করে। বল তো কে সৃষ্টি করেছেন নভোমন্ডল ও ভূমন্ডল এবং আকাশ থেকে তোমাদের জন্যে বর্ষণ করেছেন পানি; অতঃপর তা দ্বারা আমি মনোরম বাগান সৃষ্টি করেছি। তার বৃক্ষাদি উৎপন্ন করার শক্তিই তোমাদের নেই। অতএব, আল্লাহর সাথে অন্য কোন উপাস্য আছে কি? বরং তারা সত্যবিচ্যুত সম্প্রদায়। বল তো কে পৃথিবীকে বাসোপযোগী করেছেন এবং তার মাঝে মাঝে নদ-নদী প্রবাহিত করেছেন এবং তাকে স্থিত রাখার জন্যে পর্বত স্থাপন করেছেন এবং দুই সমুদ্রের মাঝখানে অন্তরায় রেখেছেন। অতএব, আল্লাহর সাথে অন্য কোন উপাস্য আছে কি? বরং তাদের অধিকাংশই জানে না। বল তো কে নিঃসহায়ের ডাকে সাড়া দেন যখন সে ডাকে এবং কষ্ট দূরীভূত করেন এবং তোমাদেরকে পৃথিবীতে পুর্ববর্তীদের স্থলাভিষিক্ত করেন। সুতরাং আল্লাহর সাথে অন্য কোন উপাস্য আছে কি? তোমরা অতি সামান্যই ধ্যান কর। বল তো কে তোমাদেরকে জলে ও স্থলে অন্ধকারে পথ দেখান এবং যিনি তাঁর অনুগ্রহের পূর্বে সুসংবাদবাহী বাতাস প্রেরণ করেন? অতএব, আল্লাহর সাথে অন্য কোন উপাস্য আছে কি? তারা যাকে শরীক করে, আল্লাহ তা থেকে অনেক ঊর্ধ্বে। বল তো কে প্রথমবার সৃষ্টি করেন, অতঃপর তাকে পুনরায় সৃষ্টি করবেন এবং কে তোমাদেরকে আকাশ ও জমিন থেকে রিযিক দান করেন। সুতরাং আল্লাহর সাথে অন্য কোন উপাস্য আছে কি? বলুন, তোমরা যদি সত্যবাদী হও তবে তোমাদের প্রমাণ উপস্থিত কর। (সূরা নামলঃ৫৯-৬৪)
মানুষের অধীনস্তকরণ ও সম্মানিত করা
ডেবোরা পটার
আমেরিকান সাংবাদিক
নবুয়তের আলামত
“মুর্খ সমাজে বেড়ে ওঠা নিরক্ষর মুহাম্মাদ কিভাবে জগতের অলৌকিক বিষয় গুলো জানতে পেরেছিল? যা আল কোরআন বর্ণনা করেছে এবং আধুনিক বিজ্ঞান আজ পর্যন্ত আবিষ্কারের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। অতএব, অবশ্যই তা আল্লাহর কালাম ছাড়া আর কিছু হতে পারে না।”
আল্লাহ তায়া’লা বস্তুগত জিনিসের পূজা অর্চনা থেকে মানুষকে মুক্তি দান করেছেন। এ ধরায় যা কিছু আছে, আসমান জমিনে যা কিছু আছে সব কিছুকে মানুষের অধীনস্থ ও আয়ত্ত্বাধীন করে দিয়েছেন। এ সব কিছুই মানুষের জন্য তাঁর দয়া ও মমতা। তিনি জমিন আবাদ ও তাতে মানুষের পূর্ণ খেলাফত প্রতিষ্ঠার উদ্দেশ্যে এ সব কিছু করেছেন। অন্যদিকে মানুষ যেন তাঁর পরিপূর্ণ ইবাদাতের উপযুক্ত হয়। এখানে অধীনস্থ বলতে দুটো অর্থ বুঝায়ঃ আল্লাহকে জানা এবং তাঁর দয়া মমতা, সম্মান ও মর্যাদা বুঝার জন্য অধীনস্থ করা। অন্যটি হলোঃ অধীনস্থ বলতে মানুষের মর্যাদা অন্যান্য সব প্রাণী ও জিনিসের উপরে বুঝানো। আল্লাহ তায়া’লা বলেনঃ
এবং আয়ত্ত্বাধীন করে দিয়েছেন তোমাদের, যা আছে নভোমন্ডলে ও যা আছে ভূমন্ডলে; তাঁর পক্ষ থেকে। (জাসিয়াঃ ১৩)
আল্লাহ তায়া’লা বলেনঃ
তিনিই আল্লাহ, যিনি নভোমন্ডল ও ভুমন্ডল সৃজন করেছেন এবং আকাশ থেকে পানি বর্ষণ করে অতঃপর তা দ্বারা তোমাদের জন্যে ফলের রিযিক উৎপন্ন করেছেন এবং নৌকাকে তোমাদের আজ্ঞাবহ করেছেন, যাতে তাঁর আদেশে সমুদ্রে চলা ফেরা করে এবং নদ-নদীকে তোমাদের সেবায় নিয়োজিত করেছেন। এবং তোমাদের সেবায় নিয়োজিত করেছেন সূর্যকে এবং চন্দ্রকে সর্বদা এক নিয়মে এবং রাত্রি ও দিবাকে তোমাদের কাজে লাগিয়েছেন। যে সকল বস্তু তোমরা চেয়েছ, তার প্রত্যেকটি থেকেই তিনি তোমাদেরকে দিয়েছেন। যদি আল্লাহর নেয়ামত গণনা কর, তবে গুণে শেষ করতে পারবে না। নিশ্চয় মানুষ অত্যন্ত অন্যায়কারী, অকৃতজ্ঞ। (ইবরাহিমঃ ৩২-৩৪)
No comments:
Post a Comment